সিলেটে শিক্ষাঙ্গনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে বাধা,ল দেয়ায় কানাইঘাটের শিক্ষক রিয়াজ বরখাস্ত করা হয়।সিলেটে শিক্ষাঙ্গনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়ায় নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোমের এক শিক্ষককে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. রিয়াজ উদ্দিন ওই প্রতিষ্ঠানের একজন প্রভাষক। তার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল লে. ক. (অব.) মুনির আহমেদ কাদেরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রভাষক রিয়াজকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।বরখাস্তকৃত শিক্ষকের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীকে স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এনে নির্বাচনি প্রচারের সুযোগ করে দেন প্রিন্সিপাল ও ট্র্যাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্য। এ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় হয়।তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধি ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী হওয়ায় তিনি এর প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে সেই ঘটনার জের ধরেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।এ বিষেয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রভাষক নিয়াজ উদ্দিন আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসলে আমরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে স্কলার্সহোমের শাহী ইদগাহ শাখায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভারতের সার্ক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি হিউম্যান রাইটস-এর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন নয়া দিল্লীতে। এ ছাড়া আটটি দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন যুব কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।
অনলাইন জরিপ
সারাদেশ
রাজনীতি
সিলেটে শিক্ষাঙ্গনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে বাধা,ল দেয়ায় কানাইঘাটের শিক্ষক রিয়াজ বরখাস্ত করা হয়।সিলেটে শিক্ষাঙ্গনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়ায় নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোমের এক শিক্ষককে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. রিয়াজ উদ্দিন ওই প্রতিষ্ঠানের একজন প্রভাষক। তার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল লে. ক. (অব.) মুনির আহমেদ কাদেরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রভাষক রিয়াজকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।বরখাস্তকৃত শিক্ষকের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীকে স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এনে নির্বাচনি প্রচারের সুযোগ করে দেন প্রিন্সিপাল ও ট্র্যাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্য। এ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় হয়।তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধি ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী হওয়ায় তিনি এর প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে সেই ঘটনার জের ধরেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।এ বিষেয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রভাষক নিয়াজ উদ্দিন আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসলে আমরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে স্কলার্সহোমের শাহী ইদগাহ শাখায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভারতের সার্ক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি হিউম্যান রাইটস-এর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন নয়া দিল্লীতে। এ ছাড়া আটটি দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন যুব কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।
৩০ আসনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করবে ১১ দলীয় ঐক্যআজ শনিবার ১৪ ফেব্রয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল জালিয়াতি, কারচুপি ও রেজাল্ট শিটে ঘষা-মাজা করে ফলাফল পরিবর্তনের বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযাম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রোটারি ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক ওলি উল্লাহ নোমান।ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলায় আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি তারা তড়িৎ পদক্ষেপ নেবেন। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত হওয়া নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রে কারচুপি, জালিয়াতি, ভোট প্রদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, রেজাল্ট শিটে ওভার রাইটিং ও ঘষামাজা হয়েছে- আমরা এসমস্ত বিষয়গুলো নির্বাচনের দিনেও তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিছু কিছু আসনে ফলাফল প্রকাশে অনেক দেরি হয়েছিল আবার কোনো কোনো আসনে বিদ্যুৎ গতিতে দেয়া হয়েছে। এভাবে অনেক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হয়েছে। যেসমস্ত আসনে এ ধরনের নির্বাচনী অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হয়নি সেই আসনগুলোর ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ভোট পুনঃগণনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান আমরা জানিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আমরা জানাবো এবং সম্ভাব্য সবধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েকজন আহত ও নিহতসহ বেশ কিছু হামলার তথ্য তুলে ধরে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয় পাওয়া দলটি তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ সহিংসতামুক্ত দেখতে চাই- যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু কোনো ধরনের সহিংসতা থাকবে না। এসময় যে ৩০ আসনে ভোট পুনঃগণনার জন্য আবেদন করা হয়েছে তা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, এসব আসনে ভোট পুনঃগণনা করলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যাদের পরাজিত করা হয়েছে তারা বিজয়ী হয়ে আসবেন। পরে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান তার নির্বাচনী আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরেন। তার তুলে ধরা তথ্যের মধ্যে রয়েছে- ফলাফল শিটে এজেন্টদের নামের গরমিল(যে নামের এজেন্ট দেখানো হয়েছে তা তিনি দেননি), এজেন্টদের এনআইডি না থাকা, ওভার রাইটিং, ফলাফল শিটে কার্বন কপি করে লেখা, পেন্সিল দিয়ে লেখা, পোলিং এজেন্টের নাম না থাকা, ফটোকপির ফলাফল শিট ব্যবহার ও কলম দিয়ে কেন্দ্রের নাম লেখা- যেখানে প্রিন্ট লেখা থাকে সাধারণত। এসময় ড. মান্নান রেজাল্ট শিটের মূলকপি সাংবাদিকদের উচিয়ে দেখান। ড. মান্নান বলেন, আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে ফলাফল স্থগিত রাখতে আবেদন করেছিলা। তা আমলে না নিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন কমিশনের অফিস প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইশরাকের ভবনে ছিল তা সরানোর জন্য গত ১৪ জানুয়ারি আবেদনও আমরা করেছিলাম- তা করা হয়নি। ভোট পুনঃগণনার জন্য আবেদন করা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০ , ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫,বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, , গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪, কক্সবাজার-৪।এসব আসনের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ২নং চাননন্দী ইউনিয়নে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেয়ার জেরে তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় নলেরচর একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।শনিবার দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী। পরে তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তি করানো হয়। তিনি হাতিয়া উপজেলা চানন্দি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এ সময় তারা একাধিক বাড়ি- ঘরে হামলা চালায়। এ বিষয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার কাছে হাতিয়া থেকে আসা একজন রোগী বয়স ৩২ বছর। তিনি অভিযোগ করেছেন যে গতকাল রাত ১১টার দিকে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন (যৌন হয়রানি) করা হয়েছে। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে ভর্তি করেছি এবং শারীরিক পরীক্ষার জন্য আমাদের গাইনি বিভাগে পাঠিয়েছি। বাকিটা গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত ফলাফল জানাবেন।"ভুক্তভোগী দেওয়া তথ্যমতে, গত রাতে ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে 'কালা এমরান' নামের একজন এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজন দরজায় পাহারায় ছিলেন, আর 'রহমান' নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।ওই নারীর অভিযোগ, তিনি নির্বাচনে 'শাপলা কলি' প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।ঘটনার পর আজ শনিবার সকালে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার ঘরের মেইন দরজা এবং ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় তারা ভুক্তভোগীকে ঘর থেকে টেনে বের করে আনে এবং 'শাপলা কলিতে' ভোট দেওয়ার' বিষয়ে কটাক্ষ করে শারীরিক নির্যাতন চালায়। ভুক্তভোগী নারী জানান, তাকে লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না।ওই ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা নিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। তিন সন্তানের জননী এই নারী জানান, এলাকায় সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে এবং বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের চাঁদা দিতে হয়।এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, এ যুগে এসে ভোট দেওয়া নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি একই সাথে এ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছি। এ বিষয়ে হাতিয়া থেকে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি এই ঘটনাটি সঠিক নয়। এটি একটি সাজানো ঘটনা।এ বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় শাপলা কলি প্রতীকের বিজয়ী আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, 'পুরো হাতিয়াতে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা একটা তাণ্ডব চালাচ্ছে। গত চার দিনে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়িঘরে হামলা করেছে, লুটপাট করেছে। অনেক মহিলাদেরকে নির্যাতন করেছে, তার মধ্যে আজকে আমি ধর্ষণের খবর পেলাম, ২নং চানন্দী ইউনিয়নে দুই দুইটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপরাধে।'প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে হান্নান মাসুদ বলেন, 'এই ব্যাপারে প্রশাসনকে বারবার বলার পরেও প্রশাসন কোন ধরনের অ্যাকশন (ব্যবস্থা) নিচ্ছে না। হাতিয়াতে অতি দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অস্ত্র উদ্ধার করা দরকার। আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করতেছে। অস্ত্রশস্ত্র, বগি দা (দেশীয় অস্ত্র), গুলি নিয়ে একেবারে ভয়াবহ অবস্থা শুরু হয়েছে হাতিয়াতে। এই তাণ্ডব থেকে হাতিয়ার মানুষকে রক্ষা করতে হবে। '
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে চিহ্নিত মৌলভীবাজার–৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনয়ন সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা উপেক্ষা করে প্রার্থী নির্ধারণের অভিযোগে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ ভোটারদের অভিমত—এই আসনে আব্দুল মান্নান ছাড়া অন্য কাউকে দাঁড় করানো মানেই জোটকে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্থানীয় মানুষ প্রকাশ্যে বলছেন, “এই আসনে আব্দুল মান্নান না থাকলে জোটের ভোট ব্যাংক ভেঙে পড়বে।”বিএনপির নাসের রহমানকে ওয়াকওভার দেওয়ার আশঙ্কামাঠপর্যায়ের একাধিক জরিপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, বিএনপির প্রার্থী নাসের রহমান বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আব্দুল মান্নান নির্বাচন না করলে নাসের রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন—এমন আশঙ্কা এখন আর গোপন নয়।স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এটা এখন আর শুধু নির্বাচন নয়—এটা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই। এই আসনে ভুল সিদ্ধান্ত মানেই রাজনগর ও মৌলভীবাজারে জামায়াত-শিবিরকে দীর্ঘদিনের জন্য কোণঠাসা করা।”কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মাঠে বিদ্রোহের সুরকেন্দ্রীয় নেতা আহমদ বিলাল–কে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কার্যত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি তৃণমূল পর্যায়ে অপরিচিত, অনেক এলাকায় তাঁর নামই জানে না মানুষ, এমনকি এজেন্ট দেওয়ার মতো সংগঠনিক সক্ষমতাও নেই।স্থানীয় লোকজনরা বলেন,-“কাগজে-কলমে কেন্দ্রীয় পদ থাকলেই মাঠে ভোট আসে না। যারা মাঠের তথ্য উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সব জায়গায় সব সময় সঠিক হতে পারে না।”বিক্ষোভ, মিছিল ও ব্লকেডের প্রস্তুতিবিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মান্নানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা না হলে মৌলভীবাজার শহর ও রাজনগরে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল, বিক্ষোভ এমনকি ব্লকেড কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও প্রবল।ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত বিস্ফোরক রূপ নিচ্ছে।আঁতাত ও লেনদেনের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতিএদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুতর অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—আহমদ বিলাল জোটের প্রভাব ব্যবহার করে মনোনয়ন আদায় করেছেন এবং প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিতে গোপন আঁতাত হয়েছে। এমনকি অর্থ লেনদেনের কথাও লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও এই গুঞ্জন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট গঠনের উদ্দেশ্য যদি একসঙ্গে বিজয় নিশ্চিত করা হয়, তবে মাঠপর্যায়ের সক্ষমতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ছাড়া কিছু নয়।একজন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,“দলের ভোটেই যদি সব নির্ধারিত হতো, তাহলে জনগণের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। মাঠ হারিয়ে জোট টিকবে না।”মৌলভীবাজার–৩ এখন আর শুধু একটি আসন নয়—এটি জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা, দূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তৃণমূলের বক্তব্য: “ভোটার কেন্দ্রে যাবে মান্নান থাকলেই”সংবাদ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ও সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে একটি সুষ্পষ্ট পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে যদি ১০ দলীয় জোট থেকে আহমদ বিলাল মনোনয়ন পান, তাহলে জোটের নিয়মিত অনুসারীরা হয়তো ভোট প্রদান করবেন। তবে বাস্তবতা হলো—সাধারণ ভোটারদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি বড় অংশ কেবল তখনই কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী, যখন প্রার্থী হিসেবে এম আব্দুল মান্নান মাঠে থাকবেন।মাঠপর্যায়ের জরিপ ও জনসংযোগ কার্যক্রম বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোট টানার সক্ষমতার দিক থেকে এম আব্দুল মান্নান অন্য যে কোনো বিকল্প প্রার্থীর তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে। রাজনগর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও মানবিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।তৃণমূলের ভাষ্য অনুযায়ী,“এই আসনে প্রার্থী শুধু প্রতীকের বিষয় নয়—মানুষ কাকে বিশ্বাস করে, কার ডাকে ঘর ছেড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে, সেটাই আসল।”তাদের আরও আশঙ্কা, এম আব্দুল মান্নানকে উন্মুক্ত না রাখা হলে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারে, এমনকি বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হতে পারে—যা জোটের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—মৌলভীবাজার-৩ আসনে জনগণের পালস বুঝে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। তাদের ভাষায়, “ভোটের অঙ্ক কাগজে নয়, মাঠে লেখা হয়।” এদিকে ফেইসবুক ও সোস্যাল নেটওয়ার্কে চলছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ মিউচুয়াল পার্টি (বিএমপি) নামে নতুন একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্ট এ আত্মপ্রকাশ হয়।অনুষ্ঠানে মেরাজুল হক কে চেয়ারম্যান ও ইসমাইল আলী কে মহাসচিব, রুপন চন্দ্র দেব কে দপ্তর সম্পাদক,রুহুল আমিন কে সাংগঠনিক সম্পাদক, ইমদাদুল হক কে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাহাদত হোসেন কে উত্তর বঙ্গের মুখ্য সচিব, দীপু কুমার সিংহ কে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মুখ্য সচিব, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কে জাতীয় নির্বাহী কমিঠির সদস্য সহ ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার,নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কাজ করবে এই রাজনৈতিক দল ।আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলটির চেয়ারম্যান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। জুলাই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙক্ষাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও শিল্পায়ন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে সুষম অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সকল নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের চাহিদা পূরণের সুযোগ নিশ্চিত হয়।সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশি জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর জন্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা; অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও জাতীয় জীবনে তাদের অধিকতর সুবিধা ও সম্মানজনক অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা। নারী ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল মানবসম্পদের সুষ্ঠু, কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা; প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রেখে এবং বিশেষভাবে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা। তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে তারা প্রার্থী দিতে চায়। এবং দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন কোমায় আছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোশকাত আহমেদ।তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদীর অবস্থা খুবই গুরুতর।তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি এখন কোমায় আছেন।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানী বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় অস্ত্রধারীরা তাকে গুলি করে। তাকে উদ্ধার করে ২টা ৩৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
সারাদেশ