দৈনিক বেলা

পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে শাপলার লাল কার্পেট

পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে শাপলার লাল কার্পেট

বর্ষার প্রলয়ংকরী পানি সরে যাওয়ার পর শীতে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো হাওরাঞ্চলে এখন ফুটে আছে রূপের অপরূপা সাজ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের উত্তরাংশে পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠেছে লাল শাপলার রাজ্য। নীল আকাশ আর রোদঝলমলে সকালের আলোয় এই লাল শাপলার বিল যেন প্রকৃতির সাজানো লাল কার্পেট—যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হাজারো দর্শনার্থী।

এই শাপলার রাজ্য গড়ে উঠেছে মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর লামাপাড়া, যাত্রাপাশা, শহশ্রী ও যতরপুর গ্রামের অংশে, গোপলা নদীর তীরঘেঁষে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাল শাপলার হাসি রঙিন করে রাখে হাওরপাড়। বিকেলে শাপলা আবার কলিতে ঢুকে যায়। আর এই সৌন্দর্যের উৎসব চলবে আরও প্রায় এক মাস।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছরই শীতের শুরুতে অল্প পানিতে ফুটে শাপলা। তবে এ বছর ফুলের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি। হাওরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় যেন লাল কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই নৌকা ভাড়া করে শাপলার রাজ্য ঘুরে দেখছেন শত শত দর্শনার্থী।

নৌকার মাঝি লতিফ মিয়া জানান—

“শাপলা দেখতে আসা মানুষদের ঘুরিয়ে দেখাতে আমাদেরও ভালো লাগে। এ সময়টা আমাদের রোজগারের বড় ভরসা।”

আরেক মাঝি খানব মিয়ার ভাষা “সময়ভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নিই। মানুষ যা দেয়, তাতেই খুশি।”

বিলে আসা ভ্রমণকারীদের চোখে-মুখে ছিল বিস্ময় আর আনন্দ।

নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পর্যটক, বলেন—“এতো বিশাল লাল শাপলার বিল আগে কখনো দেখিনি। মনে হয় স্বপ্নের মধ্যে হাঁটছি।”

মৌরিন আক্তার, সিলেট শহরের শিক্ষার্থী, বলেন— “একসাথে এত শাপলার ফুটন্ত দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রকৃতির রূপ একেবারে সামনে থেকে দেখতে দারুণ লাগছে।”

সাইফুল আলম, ঢাকায় চাকরিজীবী, বলেন “ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছিলাম, কিন্তু সামনাসামনি দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর।”

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, হাওরে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। এতে পৌঁছাতে হয় দুর্ভোগ পোহিয়ে।

মির্জাপুর ইউপি সদস্য আয়মন আলী বলেন-

“এ বছর ফুল বেশি হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন। লামাপাড়ায় ২০–২৫টি নৌকা রাখা হয়েছে। তবে রাস্তা খুবই খারাপ; দ্রুত মেরামত দরকার।”

ইউপি চেয়ারম্যান মিছলু আহমদ চৌধুরী বলেন— “কিছু অংশে কাজ হয়েছে, কিন্তু পুরো রাস্তা সংস্কার জরুরি। কৃষক, পর্যটক সবাই কষ্ট পাচ্ছেন। গোপলা নদী ও বিল খনন করাও জরুরি।”

শ্রীমঙ্গল ইউএনও ইসলাম উদ্দিন বলেন “রাস্তা সংস্কার ও গোপলা নদীর ওপর একটি সেতু স্থাপন করা গেলে যাতায়াত সহজ হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

বিষয় : শাপলা লাল শ্রীমঙ্গল মির্জাপুর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক বেলা

সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে শাপলার লাল কার্পেট

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বর্ষার প্রলয়ংকরী পানি সরে যাওয়ার পর শীতে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো হাওরাঞ্চলে এখন ফুটে আছে রূপের অপরূপা সাজ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের উত্তরাংশে পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠেছে লাল শাপলার রাজ্য। নীল আকাশ আর রোদঝলমলে সকালের আলোয় এই লাল শাপলার বিল যেন প্রকৃতির সাজানো লাল কার্পেট—যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হাজারো দর্শনার্থী।

এই শাপলার রাজ্য গড়ে উঠেছে মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর লামাপাড়া, যাত্রাপাশা, শহশ্রী ও যতরপুর গ্রামের অংশে, গোপলা নদীর তীরঘেঁষে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাল শাপলার হাসি রঙিন করে রাখে হাওরপাড়। বিকেলে শাপলা আবার কলিতে ঢুকে যায়। আর এই সৌন্দর্যের উৎসব চলবে আরও প্রায় এক মাস।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছরই শীতের শুরুতে অল্প পানিতে ফুটে শাপলা। তবে এ বছর ফুলের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি। হাওরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় যেন লাল কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই নৌকা ভাড়া করে শাপলার রাজ্য ঘুরে দেখছেন শত শত দর্শনার্থী।

নৌকার মাঝি লতিফ মিয়া জানান—

“শাপলা দেখতে আসা মানুষদের ঘুরিয়ে দেখাতে আমাদেরও ভালো লাগে। এ সময়টা আমাদের রোজগারের বড় ভরসা।”

আরেক মাঝি খানব মিয়ার ভাষা “সময়ভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নিই। মানুষ যা দেয়, তাতেই খুশি।”

বিলে আসা ভ্রমণকারীদের চোখে-মুখে ছিল বিস্ময় আর আনন্দ।

নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পর্যটক, বলেন—“এতো বিশাল লাল শাপলার বিল আগে কখনো দেখিনি। মনে হয় স্বপ্নের মধ্যে হাঁটছি।”

মৌরিন আক্তার, সিলেট শহরের শিক্ষার্থী, বলেন— “একসাথে এত শাপলার ফুটন্ত দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রকৃতির রূপ একেবারে সামনে থেকে দেখতে দারুণ লাগছে।”

সাইফুল আলম, ঢাকায় চাকরিজীবী, বলেন “ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছিলাম, কিন্তু সামনাসামনি দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর।”

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, হাওরে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। এতে পৌঁছাতে হয় দুর্ভোগ পোহিয়ে।

মির্জাপুর ইউপি সদস্য আয়মন আলী বলেন-

“এ বছর ফুল বেশি হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন। লামাপাড়ায় ২০–২৫টি নৌকা রাখা হয়েছে। তবে রাস্তা খুবই খারাপ; দ্রুত মেরামত দরকার।”

ইউপি চেয়ারম্যান মিছলু আহমদ চৌধুরী বলেন— “কিছু অংশে কাজ হয়েছে, কিন্তু পুরো রাস্তা সংস্কার জরুরি। কৃষক, পর্যটক সবাই কষ্ট পাচ্ছেন। গোপলা নদী ও বিল খনন করাও জরুরি।”

শ্রীমঙ্গল ইউএনও ইসলাম উদ্দিন বলেন “রাস্তা সংস্কার ও গোপলা নদীর ওপর একটি সেতু স্থাপন করা গেলে যাতায়াত সহজ হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।”


দৈনিক বেলা

সম্পাদকঃ তানবির খান 
প্রকাশকঃ ইমদাদুল হক

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বেলা