দৈনিক বেলা

রাজনগর থানার নতুন ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি উঠছে

বিএনপি নেতাদের কেক খাওয়ালেন নতুন ওসি—উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

বিএনপি নেতাদের কেক খাওয়ালেন নতুন ওসি—উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) যোগদানের পরদিনই স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়—ওসি নিজ হাতে দলীয় নেতাকর্মীদের কেক খাওয়াচ্ছেন এবং থানা ভবনের ভেতরেই তাদের সঙ্গে ‘উদযাপনমূলক’ আয়োজন করছেন।

ছবিগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের আগে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য? প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার ব্যাপারটি যেখানে সবচেয়ে জরুরি, সেখানে থানা কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ওসির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ যে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার এই ‘সৌহার্দ্য প্রদর্শন’ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেন, একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা কখনোই এভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পক্ষবিশেষের সঙ্গে প্রকাশ্যে উদযাপন করতে পারেন না।

 হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ মৌলভীবাজার এর  জেলা সভাপতি তারেক মাহমুদ মন্তব্য করেন,“এই আচরণ নির্বাচনের আগে জনগণের মনে অবিশ্বাস তৈরি করছে। এমন পক্ষপাতদুষ্ট ওসি কীভাবে নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন?”

ঘটনার পর স্থানীয়দের একটি অংশ দ্রুতই ওসির অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ—এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনিক সীমারেখা ও পেশাগত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন—পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জনগণের টাকা দিয়ে বেতন পান। তাই তাদের আচরণও জনগণের প্রতি সমানভাবে দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। দল, মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান দায়িত্ব পালন করাই একজন প্রকৃত পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়।

এ বিষয় থানার ওসিকে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোন ওঠান নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—“যে ওসি দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে উঠেন, তিনি কীভাবে আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক বেলা

সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বিএনপি নেতাদের কেক খাওয়ালেন নতুন ওসি—উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) যোগদানের পরদিনই স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়—ওসি নিজ হাতে দলীয় নেতাকর্মীদের কেক খাওয়াচ্ছেন এবং থানা ভবনের ভেতরেই তাদের সঙ্গে ‘উদযাপনমূলক’ আয়োজন করছেন।

ছবিগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের আগে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য? প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার ব্যাপারটি যেখানে সবচেয়ে জরুরি, সেখানে থানা কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ওসির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ যে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার এই ‘সৌহার্দ্য প্রদর্শন’ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেন, একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা কখনোই এভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পক্ষবিশেষের সঙ্গে প্রকাশ্যে উদযাপন করতে পারেন না।

 হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ মৌলভীবাজার এর  জেলা সভাপতি তারেক মাহমুদ মন্তব্য করেন,“এই আচরণ নির্বাচনের আগে জনগণের মনে অবিশ্বাস তৈরি করছে। এমন পক্ষপাতদুষ্ট ওসি কীভাবে নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন?”

ঘটনার পর স্থানীয়দের একটি অংশ দ্রুতই ওসির অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ—এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনিক সীমারেখা ও পেশাগত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন—পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জনগণের টাকা দিয়ে বেতন পান। তাই তাদের আচরণও জনগণের প্রতি সমানভাবে দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। দল, মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান দায়িত্ব পালন করাই একজন প্রকৃত পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়।

এ বিষয় থানার ওসিকে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোন ওঠান নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—“যে ওসি দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে উঠেন, তিনি কীভাবে আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন।



দৈনিক বেলা

সম্পাদকঃ তানবির খান 
প্রকাশকঃ ইমদাদুল হক

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক বেলা